কাপ্তাই হ্রদে পানি কমছে, কর্ণফুলী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন নামল ৪৬ মেগাওয়াটে

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি কমতে থাকায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন কমছে। দেশের একমাত্র এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে দৈনিক ২৪০-২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে শুধু একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৪৬ মেগাওয়াট।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি কমতে থাকায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন কমছে। দেশের একমাত্র এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে দৈনিক ২৪০-২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে শুধু একটি ইউনিট থেকে উৎপাদন হচ্ছে ৪৬ মেগাওয়াট।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের (কন্ট্রোল রুম) তথ্যমতে, হ্রদের রুল কার্ভ অনুযায়ী এ সময় হ্রদে পানির স্তর ১০৫ ফুট থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৯৮ দশমিক শূন্য ৭ ফুট, যা রুল কার্ভ অনুযায়ী প্রায় সাত ফুট কম।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটির মধ্যে একটি ইউনিটে বিদুৎ উৎপাদন করা হয়েছিল।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়া বা কমা হ্রদের পানির ওপর নির্ভর করে। হ্রদে পানি বাড়লে অনেক সময় দুটি ইউনিটও চালু হয়। শুষ্ক মৌসুমে সমস্যাটি দেখা দেয়। ডিসেম্বর থেকে হ্রদের পানি কমতে থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে এখন শুধু ৪ নম্বর ইউনিটটি চালু রয়েছে। বর্তমানে এ একটি ইউনিটে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।’

কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানিধারণ সক্ষমতা ১০৯ ফুট। কিন্তু হ্রদের পানি ১০৭-১০৮ ফুটের কাছাকাছি হলে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্লুইস গেট দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পানি নিষ্কাশন করা হয়।

১৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা হয় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কাপ্তাই হ্রদে বাঁধ দেয়া অংশে ১২ দশমিক ২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১১ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের ১৬টি জলকপাট বা স্লুইস গেট রয়েছে। এগুলো একসঙ্গে প্রতি সেকেন্ডে ৫ লাখ ২৫ হাজার কিউসেক পানি নির্গমন করতে পারে। দেশের একমাত্র এ পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে সর্বমোট ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, যা জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হয়।

আরও